ইথানল মিশ্রিত ই-২০ পেট্রল নিয়ে মোদি সরকারের নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও তীব্র করার ঘোষণা দিলেন আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক তথা দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। শনিবার দিল্লিতে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল টাউন হল অ্যাগেইনস্ট ই-২০’-এ অনুষ্ঠানে তিনি জানান যে,আগামী ৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের দিকে পদযাত্রা করবেন তিনি এবং তাঁর সমর্থকেরা। সেই কর্মসূচিতে তিনি নিজেও অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন কেজরিওয়াল।
এদিন টাউন হল সভায় বক্তৃতা রাখতে গিয়ে কেজরিওয়াল দাবি করেন তাঁর ভাষণ অনলাইনে প্রায় সাত লক্ষ মানুষ দেখেছেন। তাঁর অভিযোগ , ই-২০ পেট্রল বাধ্যতামূলক করার ফলে বহু মানুষের গাড়ির ইঞ্জিনের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া জ্বালানির মাইলেজ কমছে এবং সাধারণ ভোক্তাদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপও পড়ছে। ফলে এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের নীতিতে পরিবর্তন আনার দাবিতে জনমত গড়ে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য।
কেজরিওয়াল আরও জানান, সরকারের কাছে তাঁদের তিনটি প্রধান দাবি- প্রথমত, প্রতিটি পেট্রল পাম্পে সাধারণ পেট্রল এবং ই-২০ দুটি বিকল্পই রাখতে হবে। যাতে গ্রাহক নিজের পছন্দমতো জ্বালানি বেছে নিতে পারেন। দ্বিতীয়ত সাধারণ পেট্রলের দাম কমিয়ে প্রতি লিটার ৮৪ টাকায় আনার দাবি জানিয়েছেন কেজরিওয়াল। তৃতীয়ত, ইথানল ভিত্তিক জ্বালানির দামও কমাতে হবে বলে দাবি তাঁর ।
এর আগে ১ আগস্টের এই টাউন হল কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে কেজরিওয়াল দেশজুড়ে মানুষকে সরাসরি ও অনলাইনে অংশ দেওয়ার আহ্বান করেছিলেন। পাশাপাশি ই-২০ নীতিকে ঐচ্ছিক করার দাবিতে একটি অনলাইন স্বাক্ষর অভিযানের কথাও জানান তিনি। তাঁর দাবি সেই আবেদনে ইতিমধ্যেই কয়েক লক্ষ মানুষ সমর্থন জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ই-২০ পেট্রল নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই নীতির ফলে পুরনো গাড়ির মালিকেরা সমস্যায় পড়ছেন, নতুন গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতি হচ্ছে এবং জ্বালানির খরচও বাড়ছে। যদিও সরকার বক্তব্য, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির ব্যবহার বাড়ালে অপরিশোধিত তেলের আমদানি কমবে। কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাবে এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে। ই-২০ হল এমন এক ধরনের জ্বালানি, যেখানে ২০ শতাংশ ইথানল এবং ৮০ শতাংশ পেট্রল মেশানো থাকে।

