ডেইলি নিউজ মেইল

গত সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেন বেড়েছে ১৩.৮৮ শতাংশ

গত সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেন বেড়েছে ১৩.৮৮ শতাংশ

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে প্রধান সূচকগুলো কমলেও লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। সপ্তাহটিতে আগের সপ্তাহের তুলনায় দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ১৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ। তবে বাজারে লেনদেনের পরিমাণ প্রত্যাশিত পর্যায়ে নিতে দৈনিক গড় লেনদেন অন্তত ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা অনুযায়ী, গত সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ৪৫০ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৯৫ কোটি ২০ লাখ টাকা। 

গত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবসে মোট লেনদেন হয়েছে ২২ হাজার ৫০৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে তিন কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১১ হাজার ৮৫৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাসসকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে লেনদেনের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে কমে ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। দেশের অর্থনীতির আকার ও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এ ধরনের কম লেনদেন প্রত্যাশিত নয়। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে লেনদেন কিছুটা বাড়লেও তা এখনো বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।

তিনি বলেন, বর্তমানে পুঁজিবাজারে লেনদেন কমে যাওয়ার মতো তেমন খারাপ পরিস্থিতি নেই। ব্যাংকিং খাত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

এদিকে গত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ৩৩ দশমিক ১৯ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৪১৭ দশমিক ৪৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে এ সূচক ছিল ৫ হাজার ৪৫০ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট।

একই সময়ে ডিএস৩০ সূচক ১৬ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৯ শতাংশ কমে ২ হাজার ৮৬ দশমিক ৮৬ পয়েন্টে নেমেছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১৯ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫০ দশমিক ৬৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে এসএমই সূচক ডিএসএমইএক্স ৬ দশমিক ৪ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়ে ৯৭০ দশমিক ৮১ পয়েন্টে উঠেছে।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৮৭ কোটি ১৩ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে এ পরিমাণ ছিল ৪০ কোটি ৭৩ লাখ শেয়ার। অর্থাৎ টাকার অঙ্কে লেনদেনের পাশাপাশি শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণও বেড়েছে।

তবে দরবৃদ্ধির চেয়ে দরপতনের প্রবণতা ছিল বেশি। সপ্তাহজুড়ে ১০৯টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ২৫টির অপরিবর্তিত ছিল এবং ২৫০টির কমেছে। এ সময়ে ২৭টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়নি।

এছাড়া গত সপ্তাহে ব্লক মার্কেটে ১৭৯ কোটি ৫৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা, এসএমই বোর্ডে ১২ কোটি ৮৮ লাখ ১০ হাজার টাকা, অলটারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে ৫২ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং সরকারি সিকিউরিটিজে ৩০ কোটি ৯ লাখ ৭০ হাজার টাকার লেনদেন হয়েছে।

সাইফুল ইসলাম বলেন, দেশের অর্থনীতির আকার প্রায় অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। এ বিবেচনায় পুঁজিবাজারে দৈনিক ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হওয়া প্রত্যাশিত। এ পর্যায়ে লেনদেন না পৌঁছালে বিনিয়োগকারী, তালিকাভুক্ত কোম্পানি এবং পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠান- কোনো পক্ষের জন্যই বাজার টেকসই হবে না।

বাজারে লেনদেন বাড়াতে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বন্ড দ্রুত মূল বোর্ডে আনার উদ্যোগ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, বন্ডগুলো মূল বোর্ডে এনে লেনদেন নিশ্চিত করা গেলে পুঁজিবাজারে লেনদেনের পরিমাণ বাড়বে। পাশাপাশি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও বাড়বে।

সাইফুল ইসলাম বলেন, বন্ডের তুলনামূলক বেশি সুদের হার ও সহজে কেনাবেচার সুযোগ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে পারে। কোনো বিনিয়োগকারী প্রায় ১৩ শতাংশ মুনাফার সুযোগ পেলে এবং প্রয়োজনের সময় সহজে বন্ড বিক্রি করতে পারলে তাতে তার আগ্রহ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বন্ড মূল বোর্ডে আনার বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে সফটওয়্যার সংশোধনের কিছু প্রক্রিয়াগত বিষয় রয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ব্যবহৃত সফটওয়্যারটি একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা হওয়ায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তনে কিছুটা সময় লাগছে।’

তবে চলতি বছরের মধ্যেই বন্ডগুলো মূল বোর্ডে লেনদেনের জন্য আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন ডিবিএ সভাপতি।

তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজার ও সামগ্রিক অর্থনীতি বর্তমানে পুনরুদ্ধারের পর্যায়ে রয়েছে। এ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে বাজার-সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।