ডেইলি নিউজ মেইল

বাঁশগাড়িকে মাদক, চাঁদাবাজি ও সহিংসতামুক্ত করার আহ্বান এমপি আশরাফ উদ্দিন বকুলের

বাঁশগাড়িকে মাদক, চাঁদাবাজি ও সহিংসতামুক্ত করার আহ্বান এমপি আশরাফ উদ্দিন বকুলের

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাঁশগাড়ি ইউনিয়নকে মাদক, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও সহিংসতামুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহ-সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল।

মঙ্গলবার বাঁশগাড়ি ৩ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮৭ বছর পূর্তি ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

ইঞ্জিনিয়ার বকুল বলেন, “বাঁশগাড়ি একসময় মেধাবী মানুষের জনপদ হিসেবে পরিচিত ছিল। শিক্ষিত ও সচেতন জনগোষ্ঠীর কারণে এ এলাকা থেকে বহু গুণী মানুষের জন্ম হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে এলাকার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মতভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে হবে।”

তিনি বলেন, “আপনাদের ভাই-ভাতিজা, আত্মীয়-স্বজন কিংবা পরিচিত কেউ যদি মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাদের ফিরিয়ে আনার দায়িত্বও আপনাদের। মাদক কারবারি ও মাদকাসক্তদের তথ্য প্রশাসন কিংবা পুলিশের কাছে পৌঁছে দিন। আমরা প্রতিটি গ্রামে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকাসক্তদের তালিকা প্রস্তুত করছি। কোনো মাদক সম্রাটকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

আইনের শাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “মারামারি বা সহিংসতার রাজনীতি আর চলবে না। যারা অপরাধ করবে, তাদের বিচার আদালতেই হবে। আমরা এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে চাই।”

অস্ত্রধারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ইউএনও ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সমাবেশের আয়োজন করা হবে। সেখানে সবাইকে স্বেচ্ছায় অস্ত্র জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। অস্ত্র জমা দেওয়ার পর এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকলে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো পর্যালোচনা করে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং সাধারণ ক্ষমার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বাঁশগাড়িতে কোনো চাঁদাবাজি, খুনোখুনি বা অস্ত্রের ঝনঝনানি দেখতে চাই না। একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান কেয়া, পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল ফারুক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়পুরা সার্কেল) বায়েজিদ বিন মনসুর, জেড এইচ সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. জসিম উদ্দিনসহ প্রশাসন, রাজনৈতিক অঙ্গন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সাংবাদিক সমাজ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বিদ্যালয়ের ৮৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল।